ই বাংলা ডট টেক, প্রযুক্তির হাতেখড়ি হোক বাংলাতেই।

হ্যাকিং / সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বাংলা প্রযুক্তির ব্লগ

যেভাবে আয় করবেন মাইক্রোওয়ার্কার্স থেকে।

মাইক্রো ফ্রীলান্সিং মার্কেটপ্লেস “মাইক্রোওয়ার্কার্স”
আমাদের চাহিদার সাথে মিল রেখে অনেক ফ্রীলান্সিং সাইট এর উদ্ভাবন হয়েছে।
কিন্তু, সবাই কি আমরা সেসব সইট থেকে কাজ নিতে পারছি? উত্তর, অবশ্যই “না”! কারন, প্রায় প্রতিটি মার্কেটপ্লেসে একেকটি ডাটা এন্ট্রি প্রজেক্ট করতে শত শত আবেদন পড়ে। এদের মধ্য থেকে সুনির্দিষ্ট একজনকে বেছে নিতে ক্লায়েন্টদের সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হয়। প্রথম কাজ পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কিছুদিন বিড করার পর কাজ না পেয়ে শেষে ফ্রিল্যান্সিং করার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেন। আজকে যে ওয়েবসাইটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব তাতে কাজ করার জন্য কোনো বিড বা আবেদন করতে হয় না। অর্থাত্ ইচ্ছে করলে এই মুহূর্ত থেকে কাজ শুরু করে দেয়া যায়। আর কাজগুলোও অত্যন্ত সহজ। সাইটটি হচ্ছে মাইক্রোওয়ার্কার্স ।
মোট কথা আপনি যদি নিজেকে কিছুটা ঝালিযে নিতে চাচ্ছেন অথবা পড়াশুনার পাশাপাশি নিজের এবং ইন্টারনেটের বিল উসুল করার কথা চিন্তা করে থাকেন তবে এই ফ্রিন্যান্সিং সাইট টা আপনার জন্য । আর বর্তমান মাইক্রো-ফ্রীলান্সিং বিশ্বে অনেক সাইট রয়েছে যেখানে আপনি সামন্য কিছু কাজের ধারনা নিয়ে অনায়াসে মাসে ৩০০-৪০০০ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। সবচেয়ে ভাল এবং বেশি কাজ পাওয়া যায় এমন একটি সাইট হল “মাইক্রোওয়ার্কার্স.কম”। আজকের পোষ্টি সাজানো হয়েছে শুধু মাত্র কিভাবে মাইক্রোওয়ার্কার্স.কম এ রেজিষ্ট্রেশন এবং প্রোফাইল সাজাবেন তা নিয়ে।
মাইক্রোওয়ার্কার্স এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে—
• এখানে কাজ করার জন্য কোনো বিড করতে হয় না।
• কাজগুলো খুবই ছোট হয়ে থাকে। প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করতে সাধারণত ২ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগবে।
• কাজটি আপনি সত্যি সম্পন্ন করেছেন কিনা তার একটি প্রমাণ দিতে হয়।কীভাবে প্রমাণ দেবেন তার বর্ণনা কাজের বর্ণনার সঙ্গেই পাবেন।
• কাজগুলো যেহেতু ছোট, তাই অর্থের পরিমাণও সামান্য। প্রতিটি কাজ ০.১০ ডলার থেকে শুরু করে ৮ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
• একটি কাজ একবারই করতে পারবেন।
• মোট আয় ১০ ডলার হলে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
• চারটি পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করা যায়—চেক, মানিবুকারস, পেপাল এবং অল্টারপে।
• প্রথম বার অর্থ উত্তোলন করতে গেলে আপনার ঠিকানায় একটি চিঠি পাঠানো হবে, যাতে একটি পিন নম্বর দেয়া থাকবে। এই পদ্ধতিতে আপনার ঠিকানা যাচাই এবং একজন ব্যবহারকারী যাতে দুটি অ্যাকাউন্ট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হয়।
মাইক্রোওয়ার্কার্স.কমে কিভাবে সাইন আপ করতে হয়
• এখানে রাইট ক্লিক করে মাইক্রোওয়ার্কার্স.কম আলাদা ট্যাবে ওপেন করুন
• মাইক্রোওয়ার্কার্স.কম এর হোম পেজে Register for free লিখাতে ক্লিক করুন।
• নতুন পেজ আসবে , সেখানে আপনার তথ্য দিন এবং Submit বাটন এ ক্লিক করুন।
• আপনি যে ইমেইল টি ব্যবহার করে মাইক্রোওয়ার্কার্স.কম এ রেজিষ্ট্রেশন করলেন সেটিতে একটি ভেরিফিকেশন ইমেইল পাঠানো হয়েছে । এখান আপনার উক্ত মেইলএ গিয়ে প্রাপ্ত মেইল টা ওপেন করতে হবে ।এবার মাইক্রোওয়ার্কার্স.কম থেকে পাঠানো ভেরিফিকেশন লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন।
• লিঙ্কটিতে ক্লিক করার সাথে সাথে মাইক্রোওয়ার্কার্স.কম এর রেজিষ্ট্রেশনের এর দ্বিতীয় পেজে চলে আসবেন। এবং আপনার প্রোফাইলটি একটিভ হয়েছে এমন বার্তা পাবেন।
• এবার Account মেন্যু এর Contact details এ আপনার পুরো নাম, ঠিকানা, পোষ্টাল কোড, শহর ইত্যাদি সঠিকভাবে লিখে দিয়ে Save করুন।
ব্যাস !!! আপনার মাইক্রোওয়ার্কার্স.কম এর প্রোফাইল তৈরী এবার কাজ করার জন্য প্রস্তুত হোন।
ধারনা-২
মাইক্রো জবস
মাইক্রো জবস (Micro Jobs) কি ?
মাইক্রো জবস শব্দের অর্থ হচ্ছে ছোট ছোট কাজ। একে মাইক্রো ফ্রিলান্সিং ও বলা হয়। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আপনাকে ছোট ছোট কাজ করতে বলা হবে আপনি সঠিকভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারলে অর্থ প্রদান করা হবে।
উদাহরনঃ কোন সাইট এ সাইন আপ করা, কোন ফেসবুক পেইজে লাইক দেয়া, ইয়াহু উত্তর দেয়া, ব্লগ এ পোস্ট দেয়া, ইয়ুটিউব এ মন্তব্য করা ইত্যাদি । পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মাইক্রো জবস কেন করবেন? 

* এখানে কাজের জন্য আবেদন করতে হয়না।
* কাজ পাবার সম্ভাবনা শতভাগ নিশ্চিত।
* অল্প সময় বিনিয়োগ করে ভাল আয় করা যায়।
* রেফারেল এর উপর নির্ভর করতে হয়না।
* কোন যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। (কাজই আপনার যোগ্যতা)

মাইক্রো জবস এর ধাপসমূহঃ

প্রথমে কাজের বর্ণনা ভালভাবে পড়তে হবে।
তার পর উল্লেখিত পদ্ধতিতে কাজ সম্পাদন করতে হবে।
কাজের প্রমান (Proof) দিতে হবে।

মাইক্রো জবস বিষয়ে যা না জানলেই নয়ঃ

এখানে ২ ধরনের কাজ আছে-
১। সাধারন কাজ (Basic Tasks)
২। বিশেষ কাজ (Hire Group Tasks)
সাধারন কাজঃ এটি সবার জন্য উন্মুক্ত । আপনি অ্যাকাউন্ট খোলার সাথে সাথেই এই কাজ করতে পারবেন।
বিশেষ কাজঃ এটি কিছু নির্দিষ্ট কাজ যা এমপ্লয়ার বা কাজদাতা তার পছন্দমত কর্মীকে দিয়ে থাকে। আপনি সাধারন কাজ করতে করতে আপনার প্রোফাইল এর বিশেষত্ব বাড়ালে এমপ্লয়ারগন আপনাকে তাদের গ্রুপ এ সংযুক্ত করে নেবে। এর জন্য কোন আবেদন এর প্রয়োজন নেই।

কাজের ধরণঃ 
এখানের কাজ গুলো খুবই ছোট এবং সাধারন। যেমন, দুইটি ফেসবুক পেজে লাইক দিলেন, একটা ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করলেন, অথবা ছোট একটা আর্টিকেল লিখে দিলেন। এর জন্য আপনি অর্থ পেয়ে যাবেন। তবে মাইক্রোওয়ার্কার্স দিয়ে আপনি কখনোই ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন না। একেবারে বেসিক অবস্থার জন্যই এই সাইটটির মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারবেন।
পরবর্তীতে কাজ শিখে আপনি ফাইবার অথবা মার্কেটপ্লেসের সাইট গুলোতে কাজ করতে পারলে তবেই আপনার দ্বারা ভালো পরিমান  অর্থ আয় করা সম্ভব।

ফাইবারে কিভাবে কাজ করবেন তা নিয়ে পোস্টঃ অনলাইনে আয় হোক ফাইবার থেকে